খেলার মাঠে সবার আগে
Nsports-logo

শনিবার, ১১ই এপ্রিল ২০২৬

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়ে ১৬তম সুপার কাপ বার্সার

বার্সেলোনা ৩ - ২ রিয়াল মাদ্রিদ

দারুণ জয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা ধরে রাখল বার্সেলোনা।
জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে আজ টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে সুপার কাপে রেকর্ড ১৬তম সুপার কাপ শিরোপা জিতল বার্সেলোনা। গত আসরের ফাইনালে কাতালান দলটি জিতেছিল ৫-২ গোলে।

স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের প্রথম আধা ঘন্টায় খুব রোমাঞ্চকর কিছু ঘটেনি।
মৌসুমের প্রথম ফাইনাল, তারওপর প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা, সেখানে আক্রমণে রিয়ালের তেমন গরজ দেখাই যায়নি।

৩৪ মিনিটে রাফিনিয়া নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে পরের মিনিটেই ঠিক আগেরটির ‘কার্ন কপি’ সুযোগে গোল করলেন। তবে বিশ্বাসের সব বাঁধ ভেঙে যেতে শুরু করল দশ বা এগারো মিনিট পরই।

যোগ করা সময় দেওয়া হলো তিন মিনিট। গোল হলো তিনটি!
এমন কিছু প্রতিদিন যে দেখা যায় না, সেটা বলে দিল ইতিহাস; ‘এল ক্লাসিকো’র ইতিহাসে যে কোনো এক অর্ধে যোগ করা সময়ে আগে কখনো এত গোল দেখা যায়নি।
মাত্র কয়েক মুহূর্তের মহিমায় অসাধারণ কিছু মুভে ম্যাচ ততক্ষণে জমে ক্ষীর। তবু বিরতির সময় কেউ এগিয়ে নেই।

স্কোরলাইন ২-২।

৪৭ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ৪৯ মিনিটে লেভানডফস্কি ও ৪৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে ম্যাচ নামের এই প্লটে ছিল অসংখ্য টুইস্ট।
দ্বিতীয়ার্ধটা তাই হয়ে উঠেছিল প্রবল আকাঙ্খিত। গোল হবে আরও সেটা জানা কথাই ছিল।

শেষ বাঁশি বাজার পর কেউ কেউ হতাশ হতে পারেন।

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়ে ১৬তম সুপার কাপ বার্সার

গোল হয়েছে, তবে মাত্র একটি!

আসলে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনার পারদ যতটা চড়েছিল, তাতে বিরতির পর মাত্র এক গোলে ফুটবলপ্রেমীরা কিছুটা হতাশ হওয়ারই কথা।

বেশ কিছু আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্যে সেই গোলটি করেছেন রাফিনিয়া! ৭৩ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট নেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
রিয়ালের ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর পায়ে লেগে বলের দিক পাল্টে যায়। পোস্টে গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া তাতে ‘রং ফুটেড’ এব গোল।

এই গোলটাই বার্সাকে শেষ পর্যন্ত এনে দিয়েছে ১৬তম সুপার কাপ। তাতে মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের সঙ্গে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের ফাইনালে জয়রথ এক ধাপ এগোল।

এটা তার ১৫ তম ফাইনাল, ট্রফি হাতছাড়া হয়নি একবারও।
আর সর্বশেষ এই জয়ের ‘বোনাস’ হিসেবে গত অক্টোবরেই লা লিগায় রিয়ালের কাছে ২-১ গোলে হারের প্রতিশোধটাও যে নেয়া হয়ে গেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াংয়ের লাল কার্ড দেখা বার্সার আনন্দকে মাটি করতে পারেনি।
ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে শেষ ১৫ মিনিটে রিয়ালকে সেভাবে আক্রমণের সুযোগই দেয়নি বার্সা।

বদলি নেমে কিলিয়ান এমবাপ্পেও রিয়ালের হার ঠেকাতে পারেননি।
পিছিয়ে পড়ার মিনিট তিনেক পরই (৭৬ মিনিট) গঞ্জালো গার্সিয়াকে তুলে এমবাপ্পেকে নামিয়ে দেন রিয়াল কোচ জাবি। কারণ তখন তার একটাই মিশন: যে করেই হোক গোল চাই।

হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠা ফরাসি স্ট্রাইকার তাতে সফল হতে না পারলেও বার্সাকে ১০ জনে পরিণত করতে পেরেছেন।

তাকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং। ফাউলটা লাল কার্ড দেখার মতো ছিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে রিয়াল যে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল এবং সেটা কাজে লাগাতে পারেনি, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ের পঞ্চম ও ষষ্ঠ মিনিটে নিশ্চিত দুটি সুযোগ পেয়েছি।
প্রথমে বক্সে আলভারো ক্যারেরাস সরাসরি বার্সার গোলকিপার হোয়ান গার্সিয়ার হাতে বল মারেন, পরের মিনিটে রাউল আসেনসিওর হেডেও সোজা গার্সিয়ার হাতে।
হাফ ছেড়ে বাঁচে বার্সা। শেষ বাঁশি বাজতেই সুপার কাপ ধরে রাখার উদ্‌যাপন শুরু। গত বছর এই মাঠেই রিয়াল হেরেছিল ৫-২ গোলে।

ভিনির মুখটা তখন শুকনো।

ম্যাচের সেরা গোলটি তার। সেটাও আবার খুব দরকারের সময়ে। জাতীয় দল (৩) ও ক্লাব (১৬) মিলিয়ে টানা ১৯ ম্যাচে গোল ছিল না।
বাঁ প্রান্তে প্রথমার্ধের শুরুতে বার্সার ডিফেন্ডার জুলস কুন্দেকে গতিতে পেছনে ফেলার পর বোঝা গিয়েছিল ভিনির আজ খরা কাটতে পারে।
সেটাও কী দারুণভাবে; কুন্দেকেই বাঁ প্রান্ত দিয়ে গতিতে পেছনে ফেলে বক্সে আবারও ‘নাটমেগ’ করলেন তাকেই, সামনে ততক্ষণে পাউ কুবারসি, তাকেও কাটিয়ে তারপর গোলের শট। মনে রাখার মতো এক গোল।

কিন্তু কারও কারও কাছে সেটার স্থায়ীত্ব হতে পারে মাত্র দুই মিনিট।
যোগ করা সময় তিন মিনিট দেওয়া হলেও খেলা ততক্ষণে চতুর্থ মিনিটে এবং পেদ্রির নিখুঁত এক ডিফেন্স চেরা পাস থেকে পায়ের সামান্য এক টাচে লেভানডফস্কির অসাধারণ এক গোল! কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ অঙ্ক তখনও বাকি।
বক্সের জটলা থেকে গঞ্জালোর গোলে রিয়াল যখন সমতায় যোগ করা সময়ের খেলা পাঁচ মিনিট পেরিয়ে গেছে।

টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে রিয়ালকে হারিয়ে ১৬তম সুপার কাপ বার্সার

তবে গোল হতে পারত আরও।

দুই অর্ধে রিয়াল গোলকিপার কোর্তোয়া দুটি সেভ করেন। প্রথমার্ধে একটি সেভ গার্সিয়ার। রিয়ালের ১২টি শটের ১০টি ছিল পোস্টে, বার্সার ১৬টির মধ্যে ৭টি।
এসব পরিসংখ্যান ছাপিয়ে এই ম্যাচে রিয়াল কোচ জাবির খেলানোর কৌশল নিয়ে কথা উঠতে পারে।

গত ২৬ অক্টোবরে লা লিগায় রিয়ালের বিপক্ষে সেই হারের পর আর কোনো স্প্যানিশ প্রতিপক্ষের কাছে হারেনি টানা ১০ ম্যাচজয়ী বার্সা।
আর লা লিগাতেও দ্বিতীয় রিয়ালের সঙ্গে ৪ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে। বার্সার এবারের সুপার কাপ জয় কিন্তু একটি ইঙ্গিতও দিচ্ছে।

২০২২ সুপার কাপ জয়ের পর লিগ জেতে রিয়াল। পরের তিনটি বছর এই ধারা চলছে।
সুপার কাপজয়ী দল শেষ পর্যন্ত জিতেছে লিগ। ২০২৩ সালে বার্সা, ২০২৪ সালে রিয়াল এবং গত বছর আবার বার্সা।

১৬তম সুপার কাপ জয়ের পর এবার কি তাহলে বার্সা ফ্যানরা লিগ শিরোপার স্বপ্ন বুনতে পারে?

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy