যত গর্জে তত বর্ষে না – প্রবাদটাই যে আরও একবার মনে করিয়ে দিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। আসর শুরু আগেই মালিকহারা দলটিকে এবার শিরোপাহারাও করে দিল শান্তবাহিনী রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
না ব্যাটে না বলে, সবার প্রথমে ফাইনালের টিকিট পেয়ে দাপট দেখানো চট্টগ্রাম শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে কোনোদিকেই পাত্তা পেলনা।
একেবারে একপেশে ম্যাচে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে জিতে নতুন শিরোপার নতুন চ্যাম্পিয়ন বনে গেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বিপিএলের শিরোপা জিতলো রাজশাহী। এর আগে ভিন্ন স্বত্বাধিকারীর অধীনে ভিন্ন নামে ২০১৯-২০ বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজশাহী।
বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তিনবার শিরোপা জিতেছে ঢাকা।
রাজশাহীর সমান দুইবার করে চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল। আর একবার শিরোপা জিতেছে রংপুর রাইডার্স।
তার আগে হেলিকপ্টারে মাঠে নামল হীরাখচিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নতুন ট্রফি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম থেকে পরবর্তী ফ্লাইটে ট্রফি চট্টগ্রাম নাকি রাজশাহী যাবে? সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে সমর্থকদের উপচেপড়া ভিড়।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান।
ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী।
ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম বিভিন্ন সময় বলেছেন, তামিম ইকবালকেই আদর্শ মেনে তার বেড়ে ওঠা। খেলার ধরনেও দারুণ মিল তাদের।
২০১৯ বিপিএলের ফাইনালে তামিম ইকবাল যেভাবে প্রতিপক্ষের বোলিংকে তছনছ করে দিয়েছিলেন আজ সাত বছর পর একই মাঠ, একই মঞ্চে তানজিদ তামিমও যে দেখালেন একই খেল।
তার ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলাররা রীতিমতো দিশেহারা।
তামিম ৬১ বলে করেছেন সেঞ্চুরি।
এই তরুণ ওপেনারের অসাধারণ ইনিংসে চড়ে চট্টগ্রামকে ১৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
জবাবে বিনুরা-মুরাদদের সম্মিলিত বোলিং আক্রশণে জবাবে চোকে সর্ষে ফুল দেখে চট্টগ্রাম। ১৭.৫ ওভারে থেমে যায় ১১১ রানে।
মিরপুরে এবার কোনো ম্যাচে বড় স্কোরতো হয়নি বরং দেড় শ করাও ছিল বেশ দারুণ কিছু। তাই ফাইনালে ১৭৬ রানের লক্ষ্য কিছুটা কঠিনই ছিল চট্টগ্রামের জন্য।
তবে রাজশাহীকে তো তারা দুবার এরই মধ্যে হারিয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাস ছিল সঙ্গী।
কিন্তু দারুণ ছন্দে থাকা বিনুরার কাছে সবই ছিল নস্যি।
লঙ্কন পেসারের আগুনে বোলিংয়ে পাওয়ার-প্লেতেই তিন উইকেট হারায় চট্টগ্রাম।
সেখানেই যেন ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা।
মাঝে মিডল অর্ডারে হাসান মুরাদ ও জিমি নিশাম ধস নামান। সর্বোচ্চ ৩৬ বলে রান আসে পাকিস্তানি ওপেনার মির্জা বেগের ব্যাট থেকে।
এ ছাড়া আসিফ আলি করেন ১৬ বলে ২১ রান। ৩ ওভারে ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রাজশাহীর বিনুরা।
কোয়ালিফায়ারেও ৪ চারটি উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন। ১৫ রানে মুরাদ তিনটি, ২৪ রানে দুটি উইকেট নেন নিশাম।
বিপিএলে এ নিয়ে ১১তম ফাইনাল ম্যাচে সেই গল্পে নতুন কোনো মোড় এলো না।
বিপিএলের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত ফাইনালে টস জিতে মাত্র একবারই আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কোনো দল। ২০২২ সালের সংস্করণে বরিশালের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল কুমিল্লা।
বছরের পর বছর কোনো দল ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিং নিচ্ছে না। এই অদ্ভুত দৃঢ় এক ধারাবাহিকতা ২০২৬ সালেও অটুট থাকল।
টস জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসও হাঁটল চেনা পথে—রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে।
বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ব্যাটার তামিম।
এর আগে ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ক্রিস গেইল (১৪৬*) ও ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে তামিম ইকবাল (১৪১*) সেঞ্চুরি করেছিলেন ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে।
১৯তম ওভারে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধের শিকার হওয়ার আগে ৬২ বলে সাত ছক্কা ও ছয় ছারে ১০০ রান করেন তামিম।
বিপিএল এর ফাইনালে সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা মেরেছেন তানজিদ তামিম। তার চেয়ে বেশি ক্রিস গেইল ১৮টি এবং তামিম ইকবাল ১১টি ছক্কা মেরেছেন।
এ ছাড়া সাহিবজাদা ফারহান ৩০ কেন উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করেন। চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও মুগ্ধ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
নতুন আসর, নতুন ট্রফি, নতুন চ্যাম্পিয়ন, রাজশাহীর নতুন ফেরা, মাঝে আলোচনা-সমালোচনা। সবকিছুর পাশ কাটিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।



