রিজওয়ানদের পথ ধরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বিদায় নিল শান্তবাহিনী
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বিদায় নিল শান্তবাহিনী। ভারতের বিপক্ষে হেরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তাই আসরে টিকে থাকতে আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না টাইগারদের। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরে এক ম্যাচ আগেই আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের।
রাওয়ালপিন্ডিতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এ ছাড়া ৪৫ রান করেছেন জাকের আলি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৬ রানে ৪ উইকেট শিকার করেছেন মাইকেল ব্রেসওয়েল।
জবাবে খেলতে নেমে ৪৬ ওভার এক বলে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১১২ রান করেছেন রাচিন রবীন্দ্র।
এ ছাড়া ফিফটি পেয়েছেন টম ল্যাথাম। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন।
শুরুটা ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন আহমেদ।
গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা উইল ইয়াংকে আজ রানের খাতাই খুলতে দেননি এই ডানহাতি পেসার। দুর্দান্ত এক ইনসুইংয়ে ইয়াংকে বোল্ড করেছেন তাসকিন।
ইয়াং ডাক মারায় কোনো রান করার আগেই উইকেট হারায় কিউইরা।
অভিজ্ঞ উইলিয়ামসনকে থিতু হতে দেননি নাহিদ রানা। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে ভালো লেংথে করেছিলেন এই পেসার।
সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েছেন উইলিয়ামসন। সাজঘরে ফেরার আগে ৪ বলে ৫ রান করেছেন তিনি।
১৫ রানে দুই উইকেট হারানোর পর রাচিন রবীন্দ্র ও ডেভন কনওয়ে মিলে কিউইদের টেনে তোলার চেষ্টা করেন।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৭৩ বলে ৫৭ রান। বিপজ্জনক হতে যাওয়া এই জুটি ভেঙেছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
১৬তম ওভারে মুস্তাফিজের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল ডেকে এনে বোল্ড হয়েছেন কনওয়ে। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৪৫ বলে ৩০ রান।
একশর আগেই তিন উইকেট তুলে কিউইদের চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। তবে এরপরই যেন চীনের দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান রাচিন রবীন্দ্র ও টম ল্যাথাম।
চতুর্থ উইকেটে এই দুই জনের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় নিউজিল্যান্ড। সেঞ্চুরি পেয়েছেন রাচিন। ৯৫ বলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ১১২ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন রাচিন।
ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।
রাচিনের বিদায়ের পর বাকি কাজটা ভালোভাবেই করছিলেন ল্যাথাম।
তবে ফিফটির পর রান আউটে কাটা পড়েন তিনি। এরপর গ্লেন ফিলিপ ও মাইকেল ব্রেসওয়েল মিলে নিরাপদেই জয়ের বন্দরে নোঙর করেন।
এর আগে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরুর পাওয়ার প্লেতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ও শান্ত।
তবে গত ম্যাচের মতোই উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তামিম। 
ইনিংসের নবম ওভারে প্রথমবারের মতো স্পিন আক্রমণে যায় নিউজিল্যান্ড। আক্রমণে এসেই সাফল্যের দেখা পান মাইকেল ব্রেসওয়েল।
ওভারের দ্বিতীয় বলটি মিডউইকেট দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তামিম, ভালো টাইমিং না হওয়ায় কেন উইলিয়ামসনের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে পারেননি।
মিরাজের পর উইকেটে এসে বেশ ভুগেছেন তাওহিদ হৃদয়। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হৃদয় আজ একেবারেই ব্যর্থ।
মুশফিক-হৃদয় দ্রুত ফেরার পর বড় দায়িত্ব ছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ওপর। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার এমন পরিস্থিতি থেকে দলকে অনেকবার রক্ষা করেছেন।
তবে এবার আর পারলেন না। অল্পেই যেন ধৈর্য হারালেন তিনি। ৪ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফেরায় বিপদে বাংলাদেশ।
তামিমের সঙ্গে আজ ইনিংস ওপেন করতে নামেন শান্ত।
ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলেও এক প্রান্তে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। ব্রেসওয়েলের হাতে ধরা পড়ার আগে ১১০ বলে ৭৭ রান করেছেন শান্ত।
আট নম্বরে ব্যাট করতে এসে পাল্টা আক্রমণ করেন রিশাদ হোসেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না।
এরপর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে ফিনিশিংয়ের চেষ্টা করেন জাকের আলি। তবে ভাগ্য তার সহায় হয়নি।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের ফলে এই ম্যাচও হাত ছাড়া হয় টাইগারদের।


