শততম টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য প্রতিশ্রুতি মুশফিকের
২০ বছরের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের ক্রিকেটও প্রথমবার এমন নজিরের সাক্ষী হলো।
মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে আজ (বুধবার) আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলছে নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল। বিসিবি থেকে মুশফিককে বরণের মধ্য দিয়ে ম্যাচের শুরুটা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আজ শততম টেস্ট খেলছেন মুশফিক। তাকে ঘিরে কাল একটা উৎসবের আবহই তৈরি হয়েছিল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে।
সতীর্থদের সঙ্গে মুশফিক ড্রেসিংরুম থেকে বেরও হন তেমন আবহ সঙ্গী করেই।
আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে তাঁকে ঘিরে আয়োজনের শুরুটা হয় মাঠে সাজানো ছোট্ট একটা টেবিলের সামনে।
গ্যালারিতে তখন একই রঙের জার্সি পরে মুশফিকের জন্য হাজির হয়েছিলেন কিছু দর্শক।
অনুষ্ঠান মঞ্চে হাজির মুশফিকের পরিবারের সদস্য ও সাবেক সতীর্থরা।
আয়োজনের শুরুটা হয় মুশফিকুর রহিমের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে দিয়ে। আজ শততম টেস্টের আগে তাঁকে বিশেষ ক্যাপ পরিয়ে দেন হাবিবুল।
অভিষেক টেস্টেও তাঁকে ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন তখনকার এই অধিনায়ক।
বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে খেলা ১১ ক্রিকেটারের মধ্যে নামের অদ্যক্ষরের কারণে প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার আকরাম খান।
মুশফিকের বিশেষ দিনে তিনিও মুশফিককে বিশেষ একটি ক্যাপ তুলে দেন।
বিশেষ ক্রেস্ট তুলে দেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি ও অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন ফাহিম।
মুশফিকের প্রথম ও শততম টেস্টের সতীর্থদের সিগনেচার করা জার্সি উপহার দিয়েছেন শততম টেস্টের অধিনায়ক নাজমুল ও অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক হাবিবুল।

পুরো আয়োজনের পর মুশফিকের জন্য ছোট্ট একটা বার্তা দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
তিনি বলেন,
‘অভিনন্দন, মুশফিক ভাই। এটা আপনার ও পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্ত। আমরা আপনাকে ছোটবেলা থেকে অনুসরণ করেছি, আপনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। আমি আশা করি, মাঠে ও বাইরে আপনি যে কঠোর পরিশ্রম করেন, সেটা চালিয়ে যাবেন। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনি সব সময় দলের জন্য খেলেন। আপনি নিজের নয়, দলের কথা চিন্তা করেন।’
নিজের এমন স্মরণীয় দিনে মুশফিকুর রহিমের বক্তব্য দীর্ঘ হলো না এক মিনিটও। কৃতজ্ঞতার লম্বা তালিকাটা তিনি গেঁথে রেখেছিলেন মনে।
উপস্থিত সবাইকে দিয়ে শুরু; মা–বাবা, স্ত্রী, কোচ, সতীর্থ হয়ে ধন্যবাদের জানানোর খাতায় থাকলেন তার ভক্তরাও।
কৃতজ্ঞতা জানানোর সেই পর্বজুড়েই তার মুখে ছিল হাসি। আবেগও ছিল, তবে সংযত।
মুশফিকের শেষ দিকের কথাগুলোই যেন হয়ে থাকল তাঁর ২০ বছরের ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি,
‘আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক শ ভাগ দেব, যেমনটা সব সময় চেষ্টা করি।’




