জয়ের জন্য শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ১০ রান। ক্রিজে তখন ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ফিফটি করা অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও আগের ওভারে চার-ছক্কা মারা সাব্বির রহমান। তাতে অবশ্য মিস্টার কুল মোস্তাফিজুর রহমান মোটেই চিন্তিত ছিলেন না! ডেথ ওভারে মোস্তাফিজের জাদুতে দুই ব্যাটার কোনভাবেই বলকে বাউন্ডারির বাইরে নিতেই পারলেন না। ফলাফল রংপুর রাইডার্সের ব্যাক টু ব্যাক জয়।
আইপিএল কান্ডে ক্রিকেট বিশ্বে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম মোস্তাফিজুর রহমান।
তবে এই ক্রিকেটার সেসকল আলোচনার থোড়াই কেয়ার করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত।
আজ বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ডেথ ওভারে ঠান্ডা মাথায় কী জাদুকরি বোলিংই না করলেন!
তার কাটার আর স্লোয়ারেই শেষ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়েও ১০ রানের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে হার মানতে হয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালসকে।
ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে রংপুর রাইডার্সকে ৫ রানের জয় এনে দেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার।
আগের ওভারে চার-ছক্কায় ১০ রান করা সাব্বির রহমান ও ৩৬ বলে ৫৪ রান নিয়ে ওভার শুরু করা মোহাম্মদ মিঠুনরা শুধু চারটি সিঙ্গেলই নিতে পারলেন ওভারে।
৪-০-২৩-১, ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কী বোলিংই না করলেন এই বাঁহাতি পেসার।
প্রথম ২ ওভারে ১৭ রান দেওয়া মোস্তাফিজ ১৮তম ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ২ রান।
তবে মোস্তাফিজ নয়, ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। ৩৮ বলে ৫১ রানের দারুণ এক ইনিংসের সৌজন্যেই ম্যাচসেরা এই অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
মোস্তাফিজুর ঠান্ডা মাথার বোলিংয়ের দিনে রংপুর চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়ে উঠে এসেছে দুইয়ে।
শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসেরও পয়েন্ট। দলটি এগিয়ে নেট রান রেটে।
অন্যদিকে চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় হারের স্বাদ পাওয়া ঢাকা পড়ে আছে পাঁচে।
মিঠুন ব্যাটিংয়ে নামেন এমন সময়েই।
সাইফ হাসানকে ৪৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন, যে জুটিতে সাইফের অবদান মাত্র ১২ রান।
২৪ বলে ১৫ রান করা সাইফের বিদায়ের পর শামীম হোসেনকে নিয়ে ১৭ বলে ২২ রান যোগ করেন মিঠুন। শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারলেন না মিঠুন।
মাহমুদউল্লাহ যখন ব্যাটিংয়ে নামলেন রংপুর রাইডার্সের স্কোর ৫.২ ওভারে ৩০/৩।
আফগান পেসার জিয়াউর রহমান ওভারের প্রথম দুই বলেই লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়কে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে।
মাহমুদউল্লাহ নেমেই হ্যাটট্রিক ঠেকালেন, এরপর ডেভিড ম্যালানকে নিয়ে নামলেন ইনিংস মেরামতে।
তবে সেটি করতে গিয়ে একটু বেশিই রক্ষণাত্মক হয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। ছয় থেকে ১০, এই পাঁচ ওভারে তাঁদের দল তুলতে পারে মোটে ১৯ রান।
প্রথম ১৮ বলে মাত্র ৮ রান করা মাহমুদউল্লাহ ১১তম ওভারে প্রথম বাউন্ডারি পান।
সেই মাহমুদউল্লাহ এরপর মেরেছেন আরও ৬টি চার। এর ৩টিই সাইফ হাসানের করা ১২তম ওভারে টানা মেরেছেন।
ইনিংসে শেষ ২৩ বলে ৪৩ রান তোলা মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ১৮তম ওভারে দলকে ১২৮ রানে রেখে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে।
৪১ বলে ৫১ রান করা মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর রংপুরের ইনিংসটাকে ১৫০ পাড় করান খুশদিল শাহ। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ২১ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
এ ছাড়া রংপুরের হয়ে বলার মতো রান পেয়েছেন ডেভিড ম্যালান। চতুর্থ উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ৭৪ রানের জুটি গড়া ইংলিশ ব্যাটসম্যান ৩৩ বলে করেছেন ৩৩ রান।
আগামীকালই আবার মাঠে নামতে হচ্ছে রংপুর রাইডার্সকে।
রাতের ম্যাচে দলটির প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালস। ঢাকা ক্যাপিটালসের পরের ম্যাচ বুধবার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৫৫/৫ (মাহমুদউল্লাহ ৫১, খুশদিল ৩৮*, ম্যালান ৩৩; জিয়াউর ২/৩৫, ইমাদ ১/২০, সাইফউদ্দিন ১/২৯, তাসকিন ১/৩৫)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (মিঠুন ৫৬* , গুরবাজ ৩১, আল মামুন ২০, সাব্বির ১২*; মায়ার্স ১/৭ , খুশদিল ১/১৯, মোস্তাফিজ ১/২৩, আলিস ১/৩৮)।
ফল: রংপুর রাইডার্স ৫ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মাহমুদউল্লাহ।


