দীর্ঘ বৈঠকে সমঝোতা, শুক্রবার থেকে ফের বিপিএল যাত্রা
১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার থেকে ফের শুরু হচ্ছে বিপিএল। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তার পদত্যাগের দাবিতে আজ বিপিএলের দুটি ম্যাচই বয়কট করেন ক্রিকেটাররা।
এই দুটি ম্যাচ আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান।
রাতে গুলশানের নাভানা টাওয়ারে বিসিবি কার্যালয়ে কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।
রাত আটটার দিকে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিসিবি কর্মকর্তারা।
পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে নাভানা টাওয়ারে যান ক্রিকেটাররাও। তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই বিপিএল শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলো।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং সন্ধ্যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-সিলেট টাইটানসের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল।
ম্যাচ দুটি ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার দুপুর দুইটা ও সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবারে পূর্ব নির্ধারিত ম্যাচগুলো হবে ১৭ জানুয়ারি, শনিবার। শনিবারের ম্যাচগুলো হবে ১৮ জানুয়ারি, রোববার।
ভারতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না, এ নিয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্য করেন বিসিবির অর্থ বিভাগের প্রধান নাজমুল।
পরিচালক হিসেবে তার পদত্যাগের জন্য আজ দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেও তিনি তা করেননি।
বিকেলে বিসিবি তাকে অর্থ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তারা।
তবে সারাদিনের অনিশ্চয়তা, প্রেস কনফারেন্স, মিটিং-সিটিং এবং নানা জল্পনা-কল্পনার পর সংগঠনটি জানায় নাজমুলকে তার মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
কিন্তু বিসিবি তাদের এ শর্ত মানতে রাজি হয়নি ।
অনিশ্চয়তার মুখে পড়া বিপিএল আবারও মাঠে গড়াতে যাচ্ছে এবং ক্রিকেটাররাও ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি সুসংবাদ।
বিসিবিও এ ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে।
তবে সচেতন মহলের অভিমত,
বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কোয়াবের সঙ্গে বসে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সেই বৈঠকটি আরও আগেই করা যেত।
তাহলে এতটা অচলাবস্থা, পানি ঘোলা হওয়া কিংবা জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না—দু’পক্ষকেই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হত না।
সবকিছুর পরেও আশার কথা, বিপিএল শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াচ্ছে এবং খেলোয়াড়রা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


