বিপিএলে এবারই প্রথম অংশ নেওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস আজ নিজেদের হারের হালি পূরণ করেছে। হায়দার আলী নেতৃত্বাধীন দলটি হারল টানা চতুর্থ ম্যাচে।
শুরুতেই নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিতে অল্পে আটকে গেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। এরপর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সিলেট টাইটান্সের সহজ জয় নিশ্চিত করলেন তৌফিক খান তুষার।
দুই পরাজয়ের পর নোয়াখালীকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের হালি পূরণ করানোর মাধ্যমে জয়ে ফিরল সিলেট টাইটানস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করা নোয়াখালী বিপিএল ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন ৬১ রানে অলআউট হয়েছে।
যদিও শুরুটা এত বাজে ছিল না।
৩ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়েই ২৪ রান তুলে ফেলেছিল নোয়াখালী। নাসুমই মোড়টা ঘুরিয়ে দিতে শুরু করেন চতুর্থ ওভারে এসে।
নিজের প্রথম বলেই সৌম্য সরকারকে আউট করেন তিনি, ওই ওভারেই আউট হয়ে যান মুনিম শাহরিয়ারও।
পরের ওভারে খালেদ আহমেদ এসে নাসুমেরই হাতে ক্যাচ বানান আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা হাবিবুর রহমানকে, যিনি ১৬ বলে করেন ১৮ রান।
পাওয়ারপ্লের শেষ ওভার করতে এসে নাসুম উইকেট না পেলেও দেন মাত্র ১ রান।
নাসুম যখন ১১তম ওভারে আবার বোলিংয়ে আসেন, ততক্ষণে নোয়াখালীর রান ৪ উইকেটে ৪৫। এবারও নাসুম ১ রানই দেন, কিন্তু এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন হায়দার আলীকে।
কম রান খরচ করছিলেন, উইকেটও পাচ্ছিলেন—তবু নাসুমের বোলিংটা পূর্ণতা পায় শেষ ওভারে গিয়ে।
প্রথম ২ বলে ১ রান দেওয়ার পর টানা ২ বলে মেহেদী হাসান ও জাহির খানকে আউট করেন।
তার ওভারের শেষ বলে আউট হন বিলাল সামি। নাসুমের বোলিং ফিগার হয়—৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট।
দীর্ঘদিন ধরেই বাঁহাতি স্পিনে জাতীয় দলে নিয়মিত নাসুম। ঘরোয়া ক্রিকেটও খেলছেন এক যুগের বেশি সময় ধরে।
কিন্তু ১৪৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো ৫ উইকেট পাননি।
আজ সেই পূর্ণতার সঙ্গে আরও একটা জায়গায়ও নিজের নামটা শীর্ষে তুলেছেন তিনি, বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে বিপিএলে এটিই সেরা বোলিং ফিগার।
২০১৭ সালে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩.৫ ওভারে ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। তাকে টপকেই আজ নাসুম শীর্ষে উঠেছেন।
গত বছর দুর্দান্ত রাজশাহীর হয়ে ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ সব ধরনের বোলার মিলিয়ে শীর্ষে আছেন।
নাসুমের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর সিলেট টাইটানসের জয়টা ছিল সময়ের ব্যাপার।
৮.৪ ওভারেই ম্যাচটা জিতলেও ৩ উইকেট হারিয়েছে সিলেট। ১৮ বলে সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে তৌফিক খান তুষারের ব্যাট থেকে।
বল হাতে ২ ওভারে ৬ রানে উইকেটশূন্য থাকা মঈন ১ বলে ১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।
৬ ম্যাচে এ নিয়ে তৃতীয় জয় পেল সিলেট, ৪ ম্যাচের কোনোটিতেই জয় পায়নি নোয়াখালী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
- নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৪.২ ওভারে ৬১ (মাহিদুল ২৫, হাবিবুর ১৮; নাসুম ৫/৭, ১/৯)।
- সিলেট টাইটানস: ৮.৪ ওভারে ৬২/৪ (তৌফিক ৩২, জাকির ২৪; জহির ৩/৮)।
- ফল: সিলেট টাইটানস ৬ উইকেটে জয়ী।
- ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাসুম আহমেদ।


