আগের ম্যাচে আসরের তৃতীয় জয় দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল বন্দরনগরীর দল চট্টগ্রাম রয়্যালস। নেট রান রেটের খুব একটা তারতম্য না থাকায় আজ রংপুর রাইডার্সের সামনে ছিল শীর্ষস্থান দখলের স্পষ্ট সুযোগ। সেই সুযোগ দুই হাতে লুফে নিয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ ১৯ বলে ৩০ রানের ইনিংসে দলকে শীর্ষে তুলে মাঠ ছেড়েছেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
ব্যাট করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে রংপুর রাইডার্স।
এই ম্যাচেও রংপুরের জয়ের নেপথ্যে মূল ভূমিকা রাখেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লোয়ার অর্ডারে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
এর আগে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষেও দলের কঠিন সময়ে ব্যাট হাতে উদ্ধারকর্তা ছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল রংপুর রাইডার্স।
এক ধাপ নেমে দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিলেট।
আর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে বিপিএলে প্রথমবার অংশ নেওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস—এখনো কোনো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়নি তারা।
ম্যাচের একপর্যায়ে রংপুরের জয় নিয়ে শঙ্কা জাগে। তখনই খুশদিল শাহকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ।
শেষদিকে খুশদিল ফিরলেও অপরাজিত থেকেই দলকে জয় বন্দরে পৌঁছে দেন রিয়াদ।
এর আগে ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৯ রানে লিটন দাসকে হারায় রংপুর। ডেভিড মালানকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা ভালোভাবেই সামাল দেন কাইল মায়ার্স।
দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ৫৯ রানের জুটি ভাঙে মায়ার্সের বিদায়ে। ২৫ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে ফেরেন ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটার।
এরপর দ্রুত ধাক্কা খায় রংপুর।
৮০ থেকে ১১৭—এই ৩৭ রানের ব্যবধানে মায়ার্স, তাওহীদ হৃদয় ও মালান—তিন নির্ভরযোগ্য ব্যাটারকে হারায় দলটি। তবে সেই চাপ সামলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটার অ্যাডাম রসিংটন।
৪১ বলে খেলা তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা।
পাকিস্তানের ডানহাতি টপ অর্ডার ব্যাটার হাসান নাওয়াজ বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়েন। ৩৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোর বড় করতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
রংপুরের হয়ে দুটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা এখন ৯।
বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে মোট উইকেট ১১৪টি।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা তাসকিন আহমেদের চেয়ে তার উইকেট কম মাত্র পাঁচটি—ইঁদুর–বিড়াল দৌড় জমে উঠছে দুই পেসারের মধ্যে।
পঞ্চম ম্যাচে পাওয়া চতুর্থ জয়ের পর ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে রংপুর। আর সমান ম্যাচে দ্বিতীয় হারের পর দুইয়ে নেমে গেছে চট্টগ্রাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
- চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৬৯/৫ (রসিংটন ৫৮, হাসান নেওয়াজ ৪৬, জামাল ১৯*; আকিফ ২/২৯, মোস্তাফিজ ২/৩২, রাকিবুল ১/৪২)।
- রংপুর রাইডার্স: ১৮.৫ ওভারে ১৭০/৫ (মায়ার্স ৫০, ম্যালান ৩০, মাহমুদউল্লাহ ৩০*, খুশদিল ২২; শরীফুল ৩/৩৭, হায়দার ১/২৯, জামাল ১/৩৬)।
- ফল: রংপুর রাইডার্স ৫ উইকেটে জয়ী।
- ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কাইল মায়ার্স।


