খেলার মাঠে সবার আগে
Nsports-logo

শনিবার, ১১ই এপ্রিল ২০২৬

হারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নোয়াখালীর হেক্সা মিশন পূরণ

বিপিএল

উদ্বোধনী দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত একে একে সব ম্যাচেই ব্যর্থ। প্রথম আসরেই হারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হেক্সা মিশন পূরণ হল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। 
বিপুল পরিমাণের দর্শক সমর্থন নিয়ে প্রথমবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট খেলতে এসে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে হেক্সা মিশন পূরণ করে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি।

তবে বিপিএল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড নয়।
২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। এখনও সেটিই বিপিএলের কোনো আসরে সবচেয়ে বাজে শুরুর রেকর্ড।

এছাড়া বিপিএলের গত আসরে প্রথম ছয় ম্যাচ হেরেছিল লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিমদের ঢাকা ক্যাপিটালস।
এবার একের পর এক ম্যাচ হেরে ঢাকার সঙ্গী হয়েছে নোয়াখালী। পরের ম্যাচ হেরে গেলেই সিলেটের পাশে বসবে দলটি।

উদ্বোধনী দিন চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে হেরে শুরু হয় নোয়াখালীর বিপিএল। এরপর সিলেট টাইটান্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, সিলেট টাইটান্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের কাছে হারে তারা।
আর আজ বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে ফিরতি লড়াইয়ে আবার হেরেছে নোয়াখালী। আজই প্রথম ব্যাট হাতে তারা দেড় শ পেরিয়েছিল। তবু রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ৪ উইকেট হেরে গেছে তারা।

হারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে  নোয়াখালীর হেক্সা মিশন পূরণ

নোয়াখালী থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার।

লম্বা এই পথ পাড়ি দিয়েই বাস ভরে মানুষ এসেছেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সমর্থন দিতে।
প্রতি ম্যাচেই অবশ্য তাদের ফিরতে হচ্ছে হতাশা নিয়ে। সমর্থকদের এই মন খারাপ বুঝতে পারছেন নোয়াখালীর ক্রিকেটার সৌম্য সরকারও।

রাজশাহীর বিপক্ষে আজ ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,

‘তাদের জন্য তো খারাপ লাগে। আমাদের খারাপ লাগাটা তারা দেখছে কি না জানি না। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের খুশি করার জন্য, ব্যর্থ হচ্ছি। তাদের কাছে আমরা সরিই বলব যে তারা এত কষ্ট করে খেলা দেখতে আসে; কিন্তু আমরা জিততে পারছি না।’

৬ ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে যাওয়ায় দলটির প্লে অফে খেলার সম্ভাবনা এখন নেই বললেই চলে। অবশ্য প্লে অফ তো পরের চিন্তা, আপাতত একটা ম্যাচ জয়ই নোয়াখালীর জন্য বড় অর্জন হতো।

সৌম্যও ভাবছেন একটা জয়ের কথাই। তিনি বলেছেন,

‘আমাদের এখন মূল চিন্তা একটা ম্যাচ আগে জিততে হবে। জেতার ছন্দটা নিয়ে আসতে হবে। তারপরেরটা পরে চিন্তা।’

এমন ব্যর্থতার কী ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সৌম্য বলেছেন,

‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা ও রকমভাবে ক্লিক করতে পারেনি। প্রতি ম্যাচেই পাওয়ার প্লেতে ৩টা করে উইকেট চলে গেছে। রান না হওয়ার এটা একটা বড় কারণ।’

হারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে  নোয়াখালীর হেক্সা মিশন পূরণ

সৌম্য আরও বলেন,

‘শেষ যে কয়েকটা ম্যাচে আমি খেলেছি, দেখেছি সবাই একটা ম্যাচ জেতার জন্য অনেক মরিয়া হয়ে আছে। সবাই চেষ্টা করছে এবং সবাই সবার সেরাটা দেওয়ারও চেষ্টা করছে; কিন্তু হয়তো কোনো কারণে আমরা ক্লিক করতে পারছি না।’

বিপিএলে টানা ছয় পরাজয়ের রেকর্ড অবশ্য খুব কম নয়। গত ১১ সংস্করণে ৮টি দল টানা ৬ ম্যাচ হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে।
সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি টানা হারের রেকর্ড দুর্দান্ত ঢাকার, ২০২৪ সালে দশম বিপিএলে টানা ১০ ম্যাচ।

বিপিএলে টানা ৬ ম্যাচ হারের রেকর্ড যাদের-

  • ২০১২ – সিলেট রয়্যালস (শুরুর ৭ ম্যাচ)
  • ২০১৬ – বরিশাল বুলস (মাঝে ৬ ম্যাচ)
  • ২০২৩ – চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (মাঝে ৬ ম্যাচ)
  • ২০২৩ – ঢাকা ডমিনেটর্স (মাঝে ৬ ম্যাচ)
  • ২০২৩ – খুলনা টাইগার্স (মাঝে ৬ ম্যাচ)
  • ২০২৪ – দুর্দান্ত ঢাকা (মাঝে ১০ ম্যাচ)
  • ২০২৫ – সিলেট স্ট্রাইকার্স (মাঝে ৭ ম্যাচ)
  • ২০২৫ – ঢাকা ক্যাপিটালস (শুরুর ৬ ম্যাচ)
  • ২০২৬ – নোয়াখালী এক্সপ্রেস (শুরুর ৬ ম্যাচ)

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy